‘বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি প্রদান ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে,’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইনস্পেকটর (এসআই) ২০২৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশকে ভয়ভীতি, পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে জনমানুষকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের পাশে থেকে, মানুষকে সেবা দিয়ে, জনগণের আস্থা অর্জন করে, সত্যিকার অর্থেই জনগণের পুলিশ হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’
প্রযুক্তি নির্ভর অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা পুলিশের জন্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল প্রচলিত অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক তদন্ত অপরাধের ধরন সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে এবং পুলিশি সেবা তৃণমূলে পৌঁছে দিতে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় নতুন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার নির্দেশনা, দুর্ব্যবহার, পক্ষপাত দুষ্টতা ও পেশী শক্তির পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা আর মানবিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আপনারা আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।’
‘আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা, আপনারা সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত এবং তদন্ত ও আইন প্রয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন,’ বলেন সালাহউদ্দিন।
তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনাদের, আমাদের লক্ষ্য শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়। বরং এমন পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে এবং মানুষ নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।