রাজশাহীর গোদাগাড়ীর একজন সাংবাদিককে হেরোইন দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযোগ করা হয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত এ সভায় রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বিষয়টি তুলে ধরে তদন্তের দাবি জানান।
সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্টিত হয়। রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সভায় গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, ‘রাজশাহীর একজন সাংবাদিক মিনাল নাম, গত কয়েকদিন আগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩০০ গ্রাম মাদকসহ। এই মিনালকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। কারণ, এর গ্রেপ্তার এবং মাদকসহ চালান- এটার পেছনে রাসেল নামের এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা আছে বলে আমরা ধারণা করছি।
মামুন বলেন, যদি অপরাধী হয়, সে অপরাধী। অপরাধী না হলে তাকে যে ফাঁসানো হয়েছে, সেটি তদন্ত করে বের করা উচিত বলে আমি মনে করছি। কারণ, এই রাসেল হচ্ছে মাদক সিন্ডিকেটের একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তিনি ঢাকার বসুন্ধরায় থাকেন এবং রাজশাহীর পুরো সিন্ডিকেটটি চালাচ্ছেন। জেলখানাতেও তার পুরো টিম কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যে সেলগুলো রয়েছে, তাদের সঙ্গেও তার একটা ব্যাপক সখ্যতা রয়েছে।
মামুন আরও বলেন, রাসেলের গাড়িতে অনেকে আবার ঘুরতে বের হয়। এ সময় সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সাংবাদিক মিনালকে গ্রেপ্তারের স্থান জানতে চান। সেটি জানানোর পর সাংবাদিক মামুন বলেন, এটি আমি তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, তদন্ত হবে। আপনারাও এ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন।
উল্লেখ্য, মিনাল ইসলামের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার রামনগর লালবাগ মহল্লায়। গোদাগাড়ীর বিভিন্ন খবরাখবর তিনি নিজের ফেসবুক পেইজ ও আইডিতে পোস্ট করতেন। গত ৩ নভেম্বর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগের দিন সন্ধ্যায় কাশিয়াডাঙ্গা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিনালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাশিয়াডাঙ্গা থানা-পুলিশের এ অভিযানে ৩০০ গ্রাম হেরোইনও উদ্ধার হয়েছে।

ঘটনার সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সাদাপোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি মিনালকে ধরে আছেন। মিনাল তখন সিসি ক্যামেরার সামনে গিয়ে তল্লাশির জন্যও অনুরোধ করছিলেন। আর বলছিলেন, একদিন তিনি জেল থেকে বের হবেন। রাসেলের কত টাকা হয়েছে তা তিনি দেখবেন। তবে এই রাসেল সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিনালকে ফাঁসানোর অভিযোগ নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনার ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হেরোইনসহ মিনালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপরও কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে দেখা হবে।